চট্টগ্রামের পটিয়ায় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র আইয়ুব বাবুল। সোমবার রাত ৯টায় পটিয়া পৌর সদরের আদালত জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত জানাজায় তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের দাফন কার্যক্রমেও অংশ নিতে দেওয়া হয়। পরে নির্ধারিত সময় শেষ হলে পুলিশি প্রহরায় তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব বাবুল পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র। সোমবার দুপুরে তার মা আমজুমান আরা বেগম (৮০) বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। মানবিক বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়। এই সময়ের মধ্যেই তাকে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়।
পটিয়ার ওয়াদপা রোড এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ প্রহরায় জানাজাস্থলে আনা হয়। জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পটিয়া পৌর সদরের আদালত জামে মসজিদ চত্বরে। সেখানে স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
জানাজা শেষে আইয়ুব বাবুল উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি মায়ের সেবা করতে না পারায় গভীরভাবে দুঃখিত। তিনি জানাজায় উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিতদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান এবং কোনো ধরনের স্লোগান বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে আহ্বান জানান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়া আইয়ুব বাবুলকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়। পুরো সময় তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী তাকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় আনা হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।”
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, আইয়ুব বাবুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ছয়টি মামলা বিচারাধীন। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনায় সাধারণত মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়, বিশেষ করে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হলে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যেই এ ধরনের অনুমতি কার্যকর করা হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও মানবিক আইনগত প্রক্রিয়া ও কারাবন্দিদের অধিকার নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক