হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে তার এই পদত্যাগপত্র যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে বিচারপতি রেজাউল হাসান পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং বিধি অনুযায়ী তা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা হয়। তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তা তদন্ত করা হয়। এই কাউন্সিল প্রধান বিচারপতি এবং তার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে অতীতের কিছু মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত বক্তব্যও দাখিল করেন।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন ও পাল্টা বক্তব্যের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিচারপতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো কার্যধারা শুরু হয়নি। এরই মধ্যে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রেজাউল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে আইনজীবী ও বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১১ সালে পূর্ণাঙ্গ বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরে ও আইন অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক