লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলশিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক এবং এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
এর আগে, ১৬ জুন বিকেলে উপজেলার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হল থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা মৃত্যুর রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে তোলে।
নিহত মেহেদী হাসান সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। সন্তানের এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এ ঘটনায় ১৮ জুন নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী মেহেদীকে মারধর করা হয় এবং সেই মারধরের ফলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, একটি সামান্য ঘটনার জেরে এমন মর্মান্তিক পরিণতি সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
কসমিক ডেস্ক