লালমনিরহাটে মহান স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক (বীর প্রতীক)। চোখের জল সংবরণ করে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন—“দেশ স্বাধীন করাই কি আমার অপরাধ?”
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। তবে এই আয়োজন থেকে বাদ পড়েন জেলার একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা।
বীর প্রতীক আজিজুল হক বলেন, “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু আজকের দিনেই সবচেয়ে বড় কষ্ট পেলাম। বাড়ির লোকজন প্রশ্ন করছে, আমি কেন অনুষ্ঠানে যাইনি—এটা আমার জন্য লজ্জার।”
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী রিয়াজুল হক সরকার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছরই তিনি আমন্ত্রিত হয়ে আসছিলেন। এবার কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয় এবং এটি পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।
আরেক সাংস্কৃতিক কর্মী মার্জিয়া বলেন, একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো চরম হতাশাজনক।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, এর আগেও স্মৃতিসৌধের স্মৃতিফলক ঢেকে দেওয়ার মতো বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। এবারের ঘটনাটি সেই অবহেলারই ধারাবাহিকতা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তায় দাবি করেন, আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল।
তবে বীর প্রতীক আজিজুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড পাননি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক