মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আগুন জ্বলে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও Hezbollah ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে গোষ্ঠীটি দাবি করে, তারা উত্তর ইসরায়েলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বসতিতে হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল Metula, Kfar Giladi এবং Kiryat Shmona। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে এসব এলাকায় রকেট নিক্ষেপ করা হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Channel 12 জানিয়েছে, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের Galilee অঞ্চলে অন্তত ২০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু রকেট ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হলেও বেশ কয়েকটি খোলা জায়গায় গিয়ে পড়ে।
এই হামলার ফলে Manara এবং Kiryat Shmona এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা মূলত লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব। গত ২ মার্চ সীমান্তে সংঘর্ষের পর থেকেই Israel দক্ষিণ Lebanon-এ বিমান ও স্থল হামলা জোরদার করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৭৬২ জন। ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। তারা দাবি করছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাব দিতেই এসব রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।
তবে এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি একটি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মাঝেই ঘটছে। Iran ও United States-এর মধ্যে হওয়া ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছিল।
কিন্তু ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন বা হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাদের মতে, চুক্তিটি শুধুমাত্র ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের জন্য প্রযোজ্য, লেবানন সীমান্তের সংঘাত এর বাইরে।
ফলে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে সংঘাত কমেনি, বরং নতুন ফ্রন্টে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে নতুন করে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু স্থানীয় নয়—বৈশ্বিক রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এখন সবার নজর কূটনৈতিক সমাধানের দিকে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।
কসমিক ডেস্ক