শরীয়তপুরের সখিপুর উপজেলার বহুল আলোচিত শিশু তাইয়েবা হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলার প্রধান আসামি আয়শা বেগম হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি এলাকার ছয় বছর বয়সী শিশু তাইয়েবা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর, ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাশের একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর নিহতের বাবা টিটু সরদার বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হয়।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ তাইয়েবার আপন চাচি আয়শা বেগমসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন নাসিমা বেগম এবং আসিফ বেপারী। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয় এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ঘটনার সময় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষুব্ধ জনতা সখিপুর থানা ঘেরাও করে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। ঘটনার তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হককে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে আয়শা বেগমের জামিন মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নিহত শিশুর পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাইয়েবার বাবা টিটু সরদার বলেন, তার নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের এখতিয়ার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান দীপু জানান, এই জামিন শরীয়তপুরের কোনো আদালত থেকে দেওয়া হয়নি। আসামিপক্ষ হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ নিয়ে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত সেই আদেশ বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, জামিন পাওয়া মানেই মামলার দায় থেকে মুক্তি নয়; বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজিব ইসলাম সজিব বলেন, আয়শা বেগম একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না এবং তার কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও নেই। মামলার নথি ও আইনগত বিষয় বিবেচনা করেই হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিকে এখন নজর রয়েছে নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্টদের।
কসমিক ডেস্ক