মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজা উপত্যকায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) একজন কর্মী। নিহত ব্যক্তির নাম মাজদি আসলান (৫৪), যিনি গাজায় রোগী স্থানান্তরের দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৬ এপ্রিল), যখন তিনি একটি গাড়ি চালিয়ে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, গাড়িটিতে স্পষ্টভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লোগো ছিল এবং এটি সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে চলাচল করছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস গেব্রেয়েসুস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়িটিতে আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। স্থানীয় এক চিকিৎসক ডা. ফাথি আল-লুলু দাবি করেন, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি নম্বরবিহীন গাড়ি দ্রুতগতিতে তাদের সেনাদের দিকে এগিয়ে আসছিল, যা হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি এবং পরে সরাসরি গুলি চালানো হয়। তবে তারা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি; বরং তাদের গুলিতে দুইজন স্থানীয় কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে।
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। তবে এই ঘটনার সত্যতা ও দায় নিয়ে ভিন্নমত থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় মাস পার হলেও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে শিশুসহ ৭০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
এছাড়া, গাজা থেকে গুরুতর অসুস্থ প্রায় ১৮,৫০০ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ শিশু। স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের ঘটনায় শুধু প্রাণহানি নয়, বরং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সার্বিকভাবে, গাজায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীর মৃত্যুর এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে।