ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধানে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ জাতের ধানক্ষেতে এই রোগের প্রকোপ বেশি হওয়ায় ফসলহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এটি মূলত ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগ, যা ধানের শীষ বের হওয়ার সময় আক্রমণ করে। ফলে ধান পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন হতে পারে না এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। এই সময়েই রোগের আক্রমণ হওয়ায় কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বছর উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ হেক্টর বেশি। ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করলেও হঠাৎ করে এই রোগের প্রাদুর্ভাবে তাদের আশা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিশেষ করে বিনাউটি, বাদৈর এবং মেহারী ইউনিয়নে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে। অনেক ক্ষেতেই ধানের শীষ বের হওয়ার পরপরই রোগের আক্রমণ শুরু হয়েছে, যা ফলনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, তারা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। কৃষক বিদু ও দোলন মিয়া জানান, আগের কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ধরনের তদারকি না থাকায় তারা নিজেরাই কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা কার্যকর হচ্ছে না।
কৃষকদের মতে, এই ফসলই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। ফসল বিক্রি করেই তারা ঋণ পরিশোধ এবং সংসার চালান। এখন যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়বে। তাই তারা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানিয়েছেন, পুরাতন জাত হওয়ায় ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তাই কৃষকদের এসব জাতের পরিবর্তে নতুন ও রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও এই রোগের বিস্তার ঘটতে পারে। তবে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধানের রোগ প্রতিরোধে সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ প্রয়োগ, উন্নত জাত নির্বাচন এবং নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, ব্লাস্ট রোগের এই প্রাদুর্ভাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ বছর বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
কসমিক ডেস্ক