বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেক আর নেই। তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাদেকের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
আব্দুস সাদেক শুধু বাংলাদেশের হকি ইতিহাসেই নয়, বরং উপমহাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও একজন সুপরিচিত নাম ছিলেন। তিনি অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে খেলেছেন এবং ইউরোপ সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের মতো দেশে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তিনি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৭ সালে আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে আবাহনী ইতিহাস গড়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।
খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি তিনি প্রশিক্ষক ও সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি আয়োজন সম্ভব হয়, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান গেমসে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারেও ভূষিত হন ১৯৯৬ সালে।
তার মৃত্যুতে ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও ক্রীড়া অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। আব্দুস সাদেক বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
কসমিক ডেস্ক