টেকনাফের সাগরে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) এক ট্রলারের জালে ধরা পড়ল বিপুল পরিমাণ ইলিশ। একবার জাল টানতেই উঠে আসে প্রায় ১০১ মণ মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকা।
শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাটে মাছগুলো আনা হলে স্থানীয় আড়তে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ট্রলারটির নাম ‘এফবি দ্বীপ’, মালিক আবুল কালাম। ট্রলারে ছিলেন ১৫ জন জেলে, যারা দুই দিন ধরে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সাগরে মাছ ধরছিলেন।
জেলেরা জানান, মাছ ধরার শুরুতে তেমন বড় ধরণের ইলিশ পাওয়া যায়নি। তবে রবিবার ভোরের দিকে ভাগ্য খুলে যায়। এক টানে বিপুল ইলিশ ধরা পড়ায় তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে পুরো চালানটি বিক্রি করা হয়।
জেলে নুরুল ইসলাম মাঝি বলেন, “শাহপরীর দ্বীপ থেকে ১৫ জেলে নিয়ে ট্রলারে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। প্রথমে তেমন মাছ না পাওয়া গেলেও ভোরে জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে। এটি আমাদের আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেবে।”
ঘাটে মাছ নামানো থেকে শুরু করে বাছাই, বরফে সংরক্ষণ ও পরিবহনে জেলে ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। পুরো এলাকা ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণ।
স্থানীয় মৎস্যজীবী নেতা আব্দুল গণি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে ইলিশের পরিমাণ কম থাকায় জেলেরা আর্থিক চাপে ছিলেন। এই বড় ধরণের ধরা ইলিশ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করবে। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জেলায় ইলিশ পাঠাতে শুরু করেছেন, কারণ ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল আলম বলেন, “সরকার নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার কারণে ইলিশের প্রজনন ও আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সুফল এখন জেলেরা পাচ্ছেন, যা তাদের আয়ের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
এই ধরণের ধরা ইলিশ শুধু জেলেদের অর্থনৈতিক স্বস্তি নয়, বরং স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহও বাড়ায়। এতে মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সংক্ষেপে, টেকনাফের সাগরে ট্রলারে ধরা পড়া ১০১ মণ ইলিশ প্রায় ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন বড় ধরণের ধরা ইলিশ জেলেদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি এনেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং মৎস্য কর্মকর্তারা জেলেদের সহায়তার পাশাপাশি মাছের সংরক্ষণ এবং বাজারে সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কসমিক ডেস্ক