ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় সংকটে পড়বে: আইএমএফ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় সংকটে পড়বে: আইএমএফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 15, 2026 ইং
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় সংকটে পড়বে: আইএমএফ ছবির ক্যাপশন:

বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে International Monetary Fund (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। চলতি বছর জ্বালানি তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকবে এবং এই প্রবণতা আগামী বছরও অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইএমএফ বলছে, এই পরিস্থিতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চম বৈশ্বিক মন্দার ঘটনা হতে পারে, যার সর্বশেষ উদাহরণ দেখা গিয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময়।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে চাপে পড়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, যদি চলতি বছর গড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি গুরুতর স্থবিরতায় পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে। এতে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, বিনিয়োগ কমে যাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ধীর হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চক্র দীর্ঘ হলে তা বৈশ্বিক মন্দাকে আরও গভীর করতে পারে।

তবে কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে আইএমএফ। যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধান হয় এবং বছরের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তাহলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আইএমএফের মতে, ইরানের অর্থনীতি এ বছর ৬ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে দেশটি আবার প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে।

একইভাবে, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় সরবরাহকারী Qatar-এর অর্থনীতিও বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনৈতিক সংকোচন আরও তীব্র হতে পারে।

আইএমএফ আরও উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর। যেমন Saudi Arabia বিকল্প পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারলেও অন্যান্য দেশগুলো একই সুবিধা পায় না।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির সমন্বিত চাপ আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বনবিভাগের অভিযানে হরিণ চোর হানিফা জেলে, স্ত্রী তালাক নিলেন

বনবিভাগের অভিযানে হরিণ চোর হানিফা জেলে, স্ত্রী তালাক নিলেন