মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে Turkey। একই সঙ্গে দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ‘গঠনমূলক’ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।
বৃহস্পতিবার Reuters-এর বরাতে সংবাদমাধ্যম The Daily Dawn জানায়, তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান তুলে ধরে।
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং ভৌগোলিকভাবে ইরানের প্রতিবেশী হওয়ায় এই সংঘাত নিরসনে দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আঙ্কারা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত অবসানের পক্ষে কাজ করছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি যেন আরও জটিল বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমান আলোচনাপ্রক্রিয়ায় সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। কোনো ধরনের উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা পালন করে আসছে। একদিকে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে পশ্চিমা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ—এই অবস্থান দেশটিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা যেভাবে বাড়ছে, সেখানে তুরস্কের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, আঙ্কারার এই বার্তা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, যুদ্ধ নয় বরং সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমেই বর্তমান সংকট সমাধান করতে চায় তুরস্ক। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই আহ্বানে কতটা সাড়া দেয় এবং শান্তি প্রক্রিয়া কতটা এগিয়ে যায়।a
কসমিক ডেস্ক