গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শনিবার (২১ জুন) খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে দুপুর ২টায় এ সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের নেতারা আশা করছেন, এই জনসমাবেশ খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জাতীয় নির্বাচনের পর এটি বিরোধী জোটের অন্যতম বড় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এছাড়া সমাবেশে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন বলেন, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে নগরীতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাবেশকে সফল করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ১৭টি উপ-কমিটি একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরো খুলনা বিভাগজুড়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক পোস্টার, ১০ লক্ষাধিক লিফলেট এবং হাজার হাজার ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি আগত অতিথিদের স্বাগত জানাতে মহানগরীর পাঁচটি প্রবেশপথে ১৭টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, খুলনা মহানগরীসহ খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে। তারা এটিকে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে দেখছেন।
সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতে শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সার্কিট হাউজ মাঠ পরিদর্শন করেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
সব মিলিয়ে খুলনায় শনিবারের এই সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক