বিশ্বকাপ ফুটবলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঝে মধ্যেই আলোচনায় আসে নানা কুসংস্কার, ভবিষ্যদ্বাণী কিংবা রহস্যময় দাবি। এবার সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঘানার বিখ্যাত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসামের মন্তব্য।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, হ্যারি কেইনকে কীভাবে থামাতে হয় তা তিনি জানেন। বোনসাম বলেছিলেন, ‘আমি হ্যারি কেইনের ওপর কাজ করছি। আমি কী করতে পারি, সেটা আগেও দেখিয়েছি। কেইনকে থামাতে কী করতে হবে, সেটাও জানি। এতে তার বড় কোনো ক্ষতি হবে না, তবে আমার দেশের উপকার হবে।’
তার এই মন্তব্য তখন অনেকেই হাস্যরস বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের পর পরিস্থিতি যেন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ০-০ গোলে রুখে দিয়েছে ঘানা। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ইংল্যান্ড ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখলেও ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। এর আগে প্রথম ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারানো ঘানা এবারও নিজেদের জাল অক্ষত রাখে।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেওয়া আসরে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি দল কোনো গোল হজম করেনি। সেই তালিকায় রয়েছে ঘানার নামও।
ম্যাচে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে তিনি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। গোল করার মতো উল্লেখযোগ্য সুযোগও পাননি। যে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এদিকে ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে ঘানার কিছু সমর্থকের আচরণও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন সমর্থক সাদা পাউডার ছিটিয়ে এবং বিশেষ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজেদের দলের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ‘জুজু’ বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে এই দৃশ্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।
ঘানার রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং ইংল্যান্ডের ব্যর্থ আক্রমণের মধ্যে বোনসামের আগের মন্তব্যকে মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যদিও মাঠের ফলাফলের সঙ্গে কোনো ধরনের জাদুবিদ্যার বাস্তব সম্পর্কের প্রমাণ নেই, তবুও ফুটবলভক্তদের আলোচনায় বিষয়টি জায়গা করে নিয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসও বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গোল করার জন্য সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করেছি। শট নিয়েছি, হেড করেছি, সেট পিস থেকেও চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুই কাজে আসেনি। জানি না কেন এমন হলো। হয়তো কালো জাদুই মাঠে কাজ করছিল!’
তবে বাস্তবতা হলো, ঘানা দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ‘কালো জাদু’ বিতর্কের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই তাদের এই সাফল্যের মূল কারণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা
কসমিক ডেস্ক