মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের সামরিক অবস্থান। দেশটির নৌবাহিনীর একজন কমান্ডার দাবি করেছেন, ওমান উপসাগর এখন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথাও জানিয়েছিল তেহরান।
রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency-এর এক প্রতিবেদনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলসহ ওমান উপসাগর বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরানি ওই কমান্ডার বলেন, তাদের সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে নজরদারি করছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আওতায় এলে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক তৎপরতা ও মহড়ার কারণে মার্কিন রণতরী USS Abraham Lincoln ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে, তারা নিজেদের জলসীমা ও কৌশলগত অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের আপস করতে প্রস্তুত নয়। উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সামরিক প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই অঞ্চল দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়।
তারা আরও মনে করছেন, ইরানের এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক