রায়পুরার চরাঞ্চল সায়েদাবাদে অস্ত্রের কারখানা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রায়পুরার চরাঞ্চল সায়েদাবাদে অস্ত্রের কারখানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 5, 2026 ইং
রায়পুরার চরাঞ্চল সায়েদাবাদে অস্ত্রের কারখানা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের আলোচিত গ্রাম সায়েদাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছে। এখানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, বাড়িঘরে লুটপাট এবং গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ।

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় একাধিকবার এই এলাকার অস্ত্র কারখানা ও সহিংসতার খবর প্রকাশিত হলেও দীর্ঘদিন বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সম্প্রতি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দুটি অভিযানে একই এলাকা থেকে প্রায় ২০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং ১৪ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রায়পুরা উপজেলার মধ্যে সাতটি ইউনিয়নই চরাঞ্চল। এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন এবং জনবলের স্বল্পতার কারণে নিয়মিত সেবা ও নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, এই চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এক সময় টেঁটা ছিল প্রধান অস্ত্র, কিন্তু বর্তমানে সেই স্থান দখল করেছে আধুনিক দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র।

সচেতন মহলের মতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ২০ থেকে ২২ জন চিহ্নিত আসামি ও ২৭টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়ায় সেগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এসব অস্ত্র উদ্ধারে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলে আধিপত্য ধরে রাখতে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাইরে থেকে অস্ত্র তৈরির কারিগর এনে স্থানীয় বাড়িতে অস্ত্র তৈরি করাতো। এসব অস্ত্র স্থানীয়ভাবেই বিক্রি হতো এবং রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন চর ও ফাঁকা মাঠে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণে অবসরে যাওয়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর নরসিংদী সফরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধূরী জানান, রায়পুরার চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে চিরুনি অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা এখন টেঁটা ছেড়ে আগ্নেয়াস্ত্রের দিকে ঝুঁকেছে, তাই দ্রুত কম্বিং অপারেশন জরুরি।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ অক্টোবর র‍্যাব-১১ এর একটি দল সায়েদাবাদে অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন গ্রুপে অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পরে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।

স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ আলম চৌধুরী ও হানিফ মাস্টারের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ এবং যুবলীগ নেতা এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বাধীন আরেক পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বই এই সহিংসতার মূল কারণ। এসব সংঘর্ষে গত এক বছরে নারী ও শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সায়েদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মুস্তাকিম মিয়া (১৪) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অভিযানের আগাম তথ্য অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যায়, ফলে তাদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, একাধিক অভিযানে প্রায় ২০ জন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগ ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’: কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন

আওয়ামী লীগ ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’: কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন