আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমে তিনি ভেদরগঞ্জ উপজেলায় দিনভর গণসংযোগ চালান, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগমস্থলে স্ত্রী ও সন্তানসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন অপু। বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে তিনি ভোটারদের সমর্থন চান।
নির্বাচনী প্রচারে পরিবারের উপস্থিতি প্রচারে একটি মানবিক ও উষ্ণ আবহ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনেক ভোটারই এমন প্রচারকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন প্রার্থী যখন নিজের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের কাছে যান, তখন তা ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে।
ভেদরগঞ্জ বাজারে গণসংযোগকালে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, মানুষের ভালোবাসাই তার রাজনীতির মূল শক্তি। তিনি বলেন, “আমার পরিবারও এই ভালোবাসার অংশীদার। উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ শরীয়তপুর গড়তে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
স্ত্রী ও সন্তানকে পাশে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কয়েকজন ভোটার বলেন, একজন নেতা যখন নিজের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নামেন, তখন বোঝা যায় তিনি মানুষকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই বিবেচনা করেন। এমন দৃশ্য শরীয়তপুরের রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ সময় নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার, ভেদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল হাসেম ঢালী, মোহাম্মদ আসলাম মাঝি, বিএম মোস্তফা, আনিসুর রহমান স্বপন সরদার, জাকির পালোয়ান, টিআইএম মহিতুল গনী, ফারহানা নিপা, হুমায়ন দেওয়ানসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবারকে সামনে রেখে অপুর এই মানবিক প্রচার জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এ ধরনের প্রচার ইতিবাচক সাড়া ফেলছে।
নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, তিনি রাজনীতিকে মানবতার সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখতে চান। তার ভাষায়, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।
এদিন ভেদরগঞ্জে তার প্রচার কার্যক্রম উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলানো এবং নারীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রচারটি হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মেলবন্ধনের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
কসমিক ডেস্ক