সরকারি বিধিনিষেধের আলোকে চলতি মৌসুমের জন্য বন্ধ হয়ে গেল প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাত্রা। ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এবারের পর্যটন মৌসুম শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। এই দুই মাসে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ করেছেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার পর্যটক।
সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩১ জানুয়ারি সেন্টমার্টিনগামী একটি জাহাজ চলাচল করলেও এতে কোনো নতুন পর্যটক দ্বীপে যাননি। মূলত দ্বীপে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার পর্যটককে ফিরিয়ে আনতেই জাহাজটি সেন্টমার্টিনে যায়।
হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, পর্যটকদের নিয়ে জাহাজটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে না। এর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।
এ মৌসুমে কক্সবাজার শহর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে নিয়মিত চলাচল করেছে সাতটি পর্যটকবাহী জাহাজ। এসব জাহাজের মধ্যে রয়েছে এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, এমভি বে ক্রুজ, এমভি কাজল, কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এবং আটলান্টিক ক্রুজ। এসব জাহাজের মাধ্যমেই পর্যটকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২৩ সাল থেকে পর্যটন কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এসব বিধিনিষেধের আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং পর্যটকের সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পর্যটন চাপের কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে পর্যটন মৌসুম সীমিত রাখা ও নিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে।
চলতি মৌসুম শেষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক চলাচল বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক মাস দ্বীপটির পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক