ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অবস্থান পুনরায় তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহুর দপ্তর।
বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় যেকোনো ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করতে হবে এবং পুরো গাজা উপত্যকাকে সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল ঘোষিত যুদ্ধের লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান থেকে সরে আসা হবে না।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা ইস্যুতে ইসরায়েল নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় কোনো আপস করবে না। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজার প্রশাসনে যুক্ত করার প্রস্তাব ইসরায়েল গ্রহণযোগ্য মনে করছে না বলেও স্পষ্ট করা হয়।
গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও এর পরও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে চালানো অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫২৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে গাজা উপত্যকায় প্রায় ২৪ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে।
বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইরান প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, তেহরানকে বিশ্বাস করা যায় না, কারণ অতীতে তারা আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিগগিরই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং বৈঠকের স্থান নির্ধারণে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তুরস্ক ও ওমানসহ কয়েকটি দেশ এই বৈঠক আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছে ইরান।
গাজা ও ইরান—দুই ইস্যুতেই নেতানিয়াহুর কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক