মন্দিরের ভেতরে ভোটের বৈঠকের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মন্দিরের ভেতরে ভোটের বৈঠকের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 2, 2026 ইং
মন্দিরের ভেতরে ভোটের বৈঠকের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নির্বাচনী আচরণবিধিতে ধর্মীয় উপাসনালয়কে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতিতে একটি মন্দিরের ভেতরে নির্বাচনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ফয়জুল হকের উপস্থিতিতে কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের একটি মন্দিরের ভেতরে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের ভিডিও ও স্থিরচিত্র প্রার্থী নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। গত বুধবার রাতে প্রকাশিত এসব ভিডিও ও ছবির পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ফলে শুধু আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগই নয়, নির্বাচন কমিশনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দিরের প্রার্থনাস্থলের ভেতরে সারি সারি চেয়ার বসিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হয়। অস্থায়ী মঞ্চের সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা বসে ছিলেন এবং তাঁদের পেছনে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। বৈঠকে ফয়জুল হক বক্তব্য দেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট চান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্দির তাদের উপাসনার স্থান। সেখানে রাজনৈতিক বৈঠক হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেছেন এবং ধর্মীয় স্থানে রাজনীতি চান না।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিতে ধর্মীয় উপাসনালয়, ধর্মীয় স্থান কিংবা ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকায় নির্বাচনী সভা, সমাবেশ বা ভোট প্রার্থনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থী উপস্থিত থেকে ভোট চাইলে সেটি সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়—বৈঠকের নাম ‘উঠান বৈঠক’, ‘মতবিনিময়’ বা অন্য কিছু হলেও।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এটি কোনো ব্যাখ্যার জায়গা নয়। মন্দিরের ভেতর বা প্রাঙ্গণে নির্বাচনী বক্তব্য আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই বৈঠকের জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো নথি পাওয়া যায়নি। কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি। তবে বিধান অনুযায়ী, প্রার্থীকে আগেই লিখিতভাবে বৈঠকের স্থান ও সময় জানাতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সময় স্বল্পতার কথা বলে প্রার্থী মন্দিরে যান। এর আগে দলীয় নেতাকর্মীরা আশপাশের ভোটারদের সেখানে জড়ো করেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শোকজ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। এর আগেও একই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল এবং তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে ফয়জুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, এটি ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ। যদিও ধর্মীয় স্থানে প্রার্থীর উপস্থিতি ও ভোট প্রার্থনার বিষয়ে আচরণবিধির নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সোনার দামে লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সোনার দামে লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি