মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তাল নেপাল, ভারত-নেপাল সীমান্ত বন্ধ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তাল নেপাল, ভারত-নেপাল সীমান্ত বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তাল নেপাল, ভারত-নেপাল সীমান্ত বন্ধ ছবির ক্যাপশন:
ad728

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ধর্মীয়ভাবে অবমাননাকর ভিডিওকে কেন্দ্র করে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অস্থিরতার প্রভাব ভারতে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিহারের রক্সৌল সংলগ্ন ভারত-নেপাল সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত নেপালের ধনুসা জেলার কমলা পৌরসভায়। অভিযোগ অনুযায়ী, হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামে দুই যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে অন্য একটি ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে দাবি ওঠে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে ধনুসা ও পারসা জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনতা ওই দুই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং এর প্রতিক্রিয়ায় পারসা জেলার সাকুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। একই সময়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে তাদের দেব-দেবীদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষোভকারীরা বীরগঞ্জ শহরে পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে এবং একটি থানায় ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ার শেল বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর পরপরই পারসা জেলা প্রশাসন বীরগঞ্জে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কারফিউ জারি করে।

এই অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্ত এলাকাতেও পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় নেপালে কর্মরত বহু ভারতীয় শ্রমিক দলে দলে নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। ফিরে আসা শ্রমিকদের ভাষ্য, বীরগঞ্জ শহরের বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেখানে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

নেপালের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যেন ভারতের অভ্যন্তরে প্রভাব না ফেলে, সে লক্ষ্যে এসএসবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ মানুষের সব ধরনের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারত ও নেপালকে সংযুক্তকারী মৈত্রী সেতুতে বিশেষ নজরদারি বসানো হয়েছে এবং সেখানে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী সহদেওয়া, মহদেওয়া ও পান্তোকার মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তে এই কড়াকড়ি বজায় থাকবে।

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের এই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিদেশে অবস্থান করে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমানের পদত্যা

বিদেশে অবস্থান করে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমানের পদত্যা