ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 28, 2026 ইং
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে ওয়াশিংটন। সর্বশেষ ইরান অভিমুখে আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে সামরিক মহড়া চালানোর কথাও জানিয়েছে দেশটি।

গত মঙ্গলবার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের দিকে আরও একটি পূর্ণাঙ্গ নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, “আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর ইরানের পথে রয়েছে। আমি আশা করছি, তারা সমঝোতায় আসতে রাজি হবে।” তবে তাঁর এই বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে দেখছে তেহরান।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সামরিক হুমকির মধ্য দিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। বুধবার তিনি বলেন, হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো ফলপ্রসূ হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় বসতে চায়, তাহলে হুমকি ও অযৌক্তিক বিষয় উত্থাপন বন্ধ করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিমানবাহিনী শাখা ‘এয়ারফোর্সেস সেন্ট্রাল’ মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রস্তুতিমূলক সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক দিনব্যাপী এই মহড়ার মাধ্যমে সেন্টকমের দায়িত্বাধীন অঞ্চলে যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সামরিক সমন্বয় জোরদার করা এবং নমনীয় ও দ্রুত হামলার সক্ষমতা যাচাই করা। তবে মহড়ার নির্দিষ্ট দিন-তারিখ, স্থান কিংবা ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মহড়াকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে গত সোমবার সেন্টকম জানায়, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এই নৌবহরে রয়েছে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান, প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক এবং একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার। সম্ভাব্য যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে এসব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে, যদিও কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।


আপনি চাইলে আমি এটিকে


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ