রাজধানীতে শিশু নির্যাতনের একটি ঘটনায় যখন দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ২৫–৩০ জন শিশু ও কিশোরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। লাঠি হাতে একজন তরুণ তদারকি করছেন, যেন কেউ শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে।
ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ওই তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনার ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি ডাকসু সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সই করা এক চিঠিতে সর্বমিত্র চাকমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, একজন শিক্ষার্থী ও ডাকসু সদস্য হিসেবে তাঁর এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, খেলার মাঠে চুরি বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থাকলেও তার অজুহাতে শিশুদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আচরণ পছন্দ না হলে শিশুদের চলে যেতে বলা যেত, কিন্তু শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
আইন বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাটিকে স্পষ্টভাবে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদসহ একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুস্বাক্ষরকারী। ফলে শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইন—উভয়ের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিচার বহির্ভূত কোনো শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। শিশু বলে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের আচরণ অমর্যাদাকর, অমানবিক এবং সম্পূর্ণ অবৈধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যেকোনো স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো শিশু অধিকার বাস্তবায়নে আরও কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এনেছে।
কসমিক ডেস্ক