নারী ইস্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির অবস্থান সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে দলের নীতিগত অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি বলেন, দলের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্যই তিনি এই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যাতে নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা সঠিক ধারায় ফিরে আসে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জামায়াতের ইশতেহার শুরু থেকেই নারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান ধারণ করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন, উদ্যোক্তা খাত ও জনসেবায় নারীদের সক্রিয় এবং সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, প্রতিটি জেলায় নারীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিশু যত্ন সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে জামায়াত গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার কাঠামোয় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধি, গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কার্যকর আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত অবস্থান নিয়ে আসছে। এসব নীতি নতুন কোনো বিষয় নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগেই তিনি প্রকাশ্যে এসব নীতির কথা তুলে ধরেছেন এবং গত ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পলিসি সামিটেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এসব বক্তব্য কোনো অনলাইন চাপ বা সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, তার নীতি, ইশতেহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই তাকে মূল্যায়ন করা উচিত, বিভ্রান্তিকর বর্ণনার মাধ্যমে নয়। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তার ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি, যেখানে নারীদের বিষয়ে দলের সব প্রতিশ্রুতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি অগ্রসর ও মানবিক বাংলাদেশের পরিচয়, আর সেই লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামি কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য থাকার অভিযোগ ওঠে। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে ওই অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।