সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধের জেরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার পদত্যাগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন হিলি তার পদত্যাগপত্রে সরাসরি সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও প্রতিরক্ষা বাজেট বরাদ্দের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা সরকার যথাযথভাবে বরাদ্দ দেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে সম্পদ প্রয়োজন, সরকার তা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় বাজেট দিতে অনিচ্ছুক ছিল।
গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে চলমান নিরাপত্তা সংকট, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং ন্যাটো–সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থানের কারণে সরকারের বহুল আলোচিত “ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান” বাস্তবায়ন আটকে যায়। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সামরিক আধুনিকায়ন ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের কথা ছিল।
জন হিলির পদত্যাগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। কারণ, তার এই পদক্ষেপ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো, ন্যাটো জোটের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চাপ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যেই বিষয়টিকে সরকারের দুর্বল প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হিলির পদত্যাগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, সামরিক ব্যয় নিয়ে মতবিরোধ থেকে শুরু হওয়া এই পদত্যাগ যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক