উত্তরা ইউনিভার্সিটি এবং প্রাইম ব্যাংক একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফিন্যানশিয়াল ও ক্যারিয়ার লিটারেসি প্রোগ্রাম-২০২৬ (সিজন ১)। ৯ এপ্রিল দিনব্যাপী এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের উদ্যোগে এবং ইউ ইউ বিজনেস ক্লাবের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সামনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা তুলে ধরতেই এই প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রাইম ব্যাংক পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কনজিউমার ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এম. এনায়েম এ. চৌধুরী তার কী-নোট বক্তব্যে ক্যারিয়ার উন্নয়নের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে ডাটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষা এবং যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এসব দক্ষতার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং লায়াবিলিটি ও উইমেন ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান শায়লা আবেদিন তার বক্তব্যে কর্মজীবনে সফল হতে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য ক্যারিয়ার গঠনে সচেতনতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ফাইন্যানশিয়াল ইনক্লুশন ও স্কুল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এম. এম. মাহবুব হাসান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি আর্থিকভাবে সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্কুল পর্যায় থেকেই ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন ড. ইশরাত হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ফিন্যানশিয়াল এবং ক্যারিয়ার লিটারেসির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেমিনারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পোস্টার প্রেজেন্টেশন সেশন, যেখানে ১০টিরও বেশি শিক্ষার্থী দল তাদের উদ্ভাবনী এবং গবেষণাভিত্তিক ধারণা উপস্থাপন করে। এই অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনার পরিচয় বহন করে এবং তাদের বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার কাজী মহিউদ্দিন। এছাড়া ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. সোয়েব মো. শোয়েব নোমানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি বক্তব্য প্রদান করেন ড. ইশরাত হোসেন। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, শিক্ষার্থী এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দক্ষ ও প্রস্তুত তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।