জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১,৮৮৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১,৮৮৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১,৮৮৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন একটি বড় প্রকল্পে নানা ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগ উঠে এসেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রস্তুত করা একটি প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মূলত প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেন কি না তা যাচাই করার জন্য এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সেই প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও ত্রুটি ধরা পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামোর মান সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল ও মুক্তাগাছা উপজেলার কিছু পাবলিক টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো টয়লেটে এত ময়লা ও দুর্গন্ধ রয়েছে যে সেখানে প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কিছু স্থাপনায় টাইলস ভেঙে গেছে বা মেঝে দেবে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোথাও দরজা ঠিকমতো খোলা যায় না, কোথাও ঘরের ভেতর মাকড়সার জাল জমে আছে। এসব বিষয় প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নকশা অনুযায়ী কাজ না করে হতদরিদ্রদের জন্য টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পের শুরুতেই কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর সরকার ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ স্যানিটেশন স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল।

দেশের আট বিভাগের ৩০ জেলার ৯৮টি উপজেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে। প্রকল্পের আওতায় গ্রামাঞ্চলের বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহের বড় ও ছোট স্কিম স্থাপন, স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, কমিউনিটি ক্লিনিকে স্যানিটেশন সুবিধা উন্নয়ন, হাত ধোয়ার স্টেশন স্থাপন এবং হতদরিদ্র পরিবারের জন্য পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের কথা ছিল।

তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ সন্তোষজনক হয়নি বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যে কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর অনেকগুলোতেই ত্রুটি পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কাজের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কুমিল্লা ও পাবনায় কিছু ক্ষেত্রে পাবলিক টয়লেট সঠিকভাবে নির্মাণ করা হলেও অধিকাংশ জেলায় নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখা গেছে। জামালপুরে বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য জলাশয় ভরাট করে পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রামে ল্যাট্রিন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করা হয়নি। মৌলভীবাজার জেলার সদর ও রাজনগর উপজেলায়ও বিভিন্ন কাজে অনিয়ম পাওয়া গেছে। কোথাও মাটির নিচে নির্ধারিত গভীরতায় পাইপলাইন বসানো হয়নি, আবার কোথাও নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু স্থানে মাটির ওপর দিয়েই পাইপলাইন বসানোর ঘটনাও ধরা পড়ে।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হাত ধোয়ার স্টেশন ব্যবহার হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদে নির্মিত কিছু পাবলিক টয়লেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে অনেক দূরে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে, ফলে সেগুলো ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি প্রত্যাশিত নয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪৬ শতাংশ।

প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের পরিধিও সংশোধন করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন পানির বড় স্কিম ৭৮টির পরিবর্তে ৫৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে প্রতিটি বড় স্কিমের ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ছোট স্কিমের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। হতদরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত টুইন পিট ল্যাট্রিনের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু প্রতিটির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্প তদারকির জন্য নিয়মিত পিআইসি ও পিএসসি সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিত হয়নি। এ পর্যন্ত দুই দফা অডিটে কয়েকটি বিষয়ে আপত্তিও উঠেছে।

সব মিলিয়ে আইএমইডির প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নের নানা ত্রুটি ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ইতিহাস: টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ১৬ হা

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ইতিহাস: টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ১৬ হা