গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রবিবার (সাম্প্রতিক সময় অনুযায়ী) মাগাজি শরণার্থী শিবিরে একটি বিমান হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই সময়ে খান ইউনিস এলাকায় পৃথক আরেকটি হামলায় গাজার অপরাধ দমন পুলিশের প্রধান ওয়েসাম আবদেল-হাদি এবং তার এক সহকারী নিহত হন।
নিহত পুলিশ সদস্যরা গাজার শাসনকারী গোষ্ঠী হামাস-এর নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীর সদস্য ছিলেন। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলাগুলো হঠাৎ করেই চালানো হয় এবং এতে বেসামরিক এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল গাজায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। এসব বাহিনী মূলত স্থানীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিল।
তবে এসব হামলা নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই গাজায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তাদের কয়েকজন সেনাও নিহত হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।