চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চলতি বছরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে নেই হাসি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হলেও দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং সংরক্ষণ সংকট কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে এ বছর ব্যাপকভাবে আলুর আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব পৌরসভা, নারায়ণপুর পৌরসভা, উপাধি উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন, নায়েরগাঁও উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এবং খাদেরগাঁও ইউনিয়নে মোট ১৯০৭ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গড়ে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২৮ টন উৎপাদন হয়েছে, যা একটি সন্তোষজনক ফলন হিসেবে বিবেচিত।
কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে আলু ঘরে তুলছেন। ক্ষেত থেকে আলু তুলে ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপ ও অটোরিকশার মাধ্যমে হিমাগারে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে সংরক্ষণ নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। উপজেলার তিনটি হিমাগারের মধ্যে বর্তমানে দুটি চালু থাকায় পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে ডিঙাভাঙা, দগরপুর, দিঘলদী, নারায়ণপুর, আশ্বিনপুর, খরগপুর, পাঠন, পিতামবর্দ্দি, আধারা, খিদিরপুর, কাজিয়ারা ও নায়েরগাঁও এলাকায় দেখা গেছে, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু তোলা ও সংরক্ষণে। অনেকেই মাঠ থেকেই সরাসরি হিমাগারে আলু পাঠাচ্ছেন।
তবে ভালো ফলনের পরও বাজারমূল্য নিয়ে হতাশ কৃষকরা। দগরপুর গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, “আলুর দাম আশানুরূপ নয়। গতবারের লোকসান কাটিয়ে ওঠার আশা করেছিলাম, কিন্তু এবারও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
নায়েরগাঁও গ্রামের কৃষক আলম প্রধান জানান, বছরে একবার আলু চাষ করেই তাদের সংসার চলে। তিনি বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে চাষ করেছি। এখন যদি ভালো দাম না পাই, তাহলে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে কৃষক বশির মোল্লা, কালু বেপারী, দুলাল বেপারী ও রিহাদ হোসেন বলেন, ফলন ভালো হয়েছে এবং তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এখন তারা শুধু ন্যায্য দামের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সংরক্ষণ পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্শাল কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার জিয়াউর রহমান জানান, তাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার টন। পাশাপাশি নায়েরগাঁওয়ের হিমাগারেও একই পরিমাণ ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে দ্রুতই এসব হিমাগার পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, ফলে কৃষকদের জন্য জায়গা সংকট দেখা দিচ্ছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে এবং বিভিন্ন জাতের আলুর ভালো উৎপাদন হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আলু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সার্বিকভাবে, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারমূল্য ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে কৃষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ন্যায্য দাম ও সংরক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত না হলে এ বাম্পার ফলনও কৃষকদের জন্য লাভের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কসমিক ডেস্ক