ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় আহত হয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। মামলার শুনানি শেষে আদালত ভবন থেকে নামার সময় হঠাৎ সৃষ্ট হুড়োহুড়ির মধ্যে তিনি সিঁড়িতে পড়ে যান। একই সময়ে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান, ফলে মুহূর্তেই সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিঁড়িতে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত কক্ষ থেকে বের করে আনার সময় ভিড় ও তাড়াহুড়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় ৬০ বছর বয়সী শিরীন শারমিন পড়ে গেলে ব্যথায় চিৎকার করেন। সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে টেনে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
এর আগে একই দিন ভোরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচিত। লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহসীন উদ্দীন তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে এবং একই সঙ্গে জামিন আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানির সময় শিরীন শারমিন প্রায় ২০ মিনিট কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, এ সময় তাকে বেশ বিষণ্ণ ও নীরব অবস্থায় দেখা গেছে। তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ের। ওই দিন লালবাগ থানার আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় চলমান আন্দোলনের মধ্যে ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম একটি মিছিলে অংশ নেন। অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।
বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাঁ চোখ ভেদ করে একটি গুলি ঢুকে রেটিনার পেছনে আটকে যায়, যা পরে চিকিৎসকরা বের করতে পারেননি। এছাড়া তার মাথা, কপাল, মুখ এবং হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং সিএমএইচে নেওয়া হয়, যেখানে একাধিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় আশরাফুল নিজে বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।