বছরে ৮০০ কোটি ডলারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাকখাত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বছরে ৮০০ কোটি ডলারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাকখাত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 9, 2026 ইং
বছরে ৮০০ কোটি ডলারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাকখাত ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে না পারলে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নীতিগত সহায়তার ঘাটতি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং চক্রাকার অর্থনীতি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে সার্কুলার রূপান্তর ত্বরান্বিত করা: সুইচটুসিই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বাজারগুলো এখন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন ডিল এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের মতো নতুন নীতির কারণে পোশাক শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে। ফলে বাংলাদেশের শিল্পকারখানাগুলোকে দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

বিজিএমইএর পরিচালক ও কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, বৈশ্বিক নীতি ও বাজারের পরিবর্তনের কারণে পোশাক শিল্পকে এখন টেকসই উৎপাদন ও চক্রাকার অর্থনীতির দিকে যেতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ টন টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়। এর বড় অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে পুনঃব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাত করা হলেও এখনো তা কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসেনি।

তিনি আরও বলেন, এই খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে এবং একটি সংগঠিত শিল্পভিত্তি গড়ে উঠবে। বর্তমানে ১০০ শতাংশ তুলাভিত্তিক বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হলেও রাসায়নিক পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা এখনো সীমিত। বিশেষ করে মিশ্র কাপড় ও মানবসৃষ্ট তন্তু পুনর্ব্যবহারে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কাঁচামালের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়বে। ফলে নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না। তবে বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ নীতি, আইনি কাঠামো ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের অভাবে অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।

বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদিয়া আম্মৃত খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পুরো বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা গেলে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে তুলাভিত্তিক পোশাক কারখানার বর্জ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হলেও এর বড় অংশ ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি হয়ে পুনর্ব্যবহৃত সুতা হিসেবে আবার দেশে ফিরে আসে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭টি কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার। যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পথে বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সতর্কভাবে আলোচনা করছে। তবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও চক্রাকার অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি কৌশলের কেন্দ্রেই রয়েছে চক্রাকার অর্থনীতি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য। ইউরোপে প্রতিবছর ৫০ লাখ টনের বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়, যার ফলে সেখানে নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে।

মিলার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে টেকসই ও চক্রাকার টেক্সটাইল নীতি চালু করেছে। এতে পরিবেশবান্ধব নকশা, উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট এবং বিভ্রান্তিকর পরিবেশবান্ধব প্রচারণা ঠেকাতে কঠোর বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং তৈরি পোশাক খাত দেশের জিডিপিতে প্রায় ১১ শতাংশ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
খাগড়াছড়িতে ছাত্রলীগের ৪০ নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা

খাগড়াছড়িতে ছাত্রলীগের ৪০ নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা