দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর একদিনের সরকারি সফরে বগুড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সরকারি সফরসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল সকালে তিনি ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে বগুড়া জেলা পুলিশ লাইন্স হেলিপ্যাডে পৌঁছাবেন।
বগুড়ায় পৌঁছানোর পর দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে বেলা পৌনে ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ডিজিটাল উদ্যোগ বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এরপর বেলা ১১টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এই আয়োজন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি বাঘবাড়ী নশিপুর এলাকায় চৌকিরদহ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে, যা স্থানীয় কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুপুরের দিকে প্রধানমন্ত্রী ‘শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল’ পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটায় কিছু সময় অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
বিকেলে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে নামাজ ও স্বল্প বিরতি শেষে বিকেল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে বগুড়া ত্যাগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধনের মাধ্যমে জেলার নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হলে সেখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং উন্নত সেবা প্রদান নিশ্চিত করা সহজ হয়।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়, বরং বগুড়ার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক