পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও, অর্থনীতিবিদ ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, গত এক যুগে ভুল অর্থনৈতিক নীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের ঘাটতির কারণে টেকসই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-তে আয়োজিত “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলাই আসন্ন বাজেট প্রণয়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আওয়ামী শাসনামলে অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্প অতিমূল্যায়িত ছিল এবং মেগা প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তাঁর মতে, ছোট ছোট প্রকল্পেও অনিয়ম ও অর্থ অপচয় হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়মের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অর্থনীতির অন্যান্য খাতের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক বাস্তবতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে আগামী বাজেটকে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও বাস্তবসম্মত হতে হবে। তিনি দুর্নীতিকে বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহিতা, সততা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। একইসঙ্গে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব পুনরায় সচল করা এবং দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিতার্কিকদের পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিতার্কিকরা বিজয় অর্জন করেন।
কসমিক ডেস্ক