মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন লেগে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে Kuwait Petroleum Corporation-এর অধীন মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
Mina Al Ahmadi Refinery কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার হিসেবে পরিচিত, যা দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই স্থাপনায় হামলার ঘটনা কেবল স্থানীয় নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলার জন্য Iran-এর ড্রোনকে দায়ী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব পক্ষের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়।
এদিকে একই সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের বরাতে বলা হয়েছে, মধ্য আকাশে বিমানটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয় এবং সেটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
ইরানি বার্তাসংস্থাগুলো দাবি করেছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় পাইলট বের হতে পারেননি। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তেল শোধনাগার বা জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কুয়েতের তেল শোধনাগারে এই ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক