বাংলাদেশের সব ধরনের আন্তর্জাতিক গোপন চুক্তি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে যেসব চুক্তি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পাদিত হয়েছে, সেগুলো জনগণের সামনে আনা উচিত। তার মতে, এসব চুক্তির শর্তাবলি যাচাই করা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য পর্যালোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবু আলম মো. শহিদ খান টক শোতে আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি চুক্তি নিয়ে তার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। তার ভাষায়, ওই চুক্তির কিছু শর্ত দেশের কৃষি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এসব চুক্তির কারণে দেশের নীতিনির্ধারণে প্রভাব পড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই সাধারণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাবেক এই সচিব বলেন, “আমার দাবি হলো—বাংলাদেশের সঙ্গে যত দেশের গোপন চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আনা হোক, সেখানে আলোচনা হোক। যদি দেখা যায় কোনো শর্ত দেশের স্বার্থবিরোধী, তাহলে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়েও এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। কারণ, জাতীয় স্বার্থে জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপন চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বচ্ছতার বিষয় হতে পারে। এতে করে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক হবে বলে অনেকে মনে করেন।
তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চুক্তি অনেক সময় সংবেদনশীল হয়, যেখানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় জড়িত থাকে। তাই সব তথ্য প্রকাশ করা সবসময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সাবেক সচিবের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বনাম কৌশলগত গোপনীয়তা—এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি আবারও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে স্বচ্ছতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সব মিলিয়ে, আবু আলম মো. শহিদ খানের এই আহ্বান রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে।
কসমিক ডেস্ক