Raj Chakraborty পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিন পরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তির কথা জানান।
গত ৪ এপ্রিল West Bengal বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। এবারের নির্বাচনে জয় পেয়েছে Bharatiya Janata Party এবং পরাজিত হয়েছে All India Trinamool Congress।
এই নির্বাচনে পুরনো কেন্দ্র Barrackpore থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি রাজ চক্রবর্তী। ফল প্রকাশের পরই তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন রাজ। ওই বছর ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন তিনি। এরপর পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এই সময় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রচারণায়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিশেষ করে “লক্ষ্মীর ভান্ডার” প্রকল্প নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচিত হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাজ লেখেন, জীবনের প্রতিটি দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছেন। পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়িত্বও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, “২০২১ সালে আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পাঁচ বছর ধরে সেইভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সেই অধ্যায় শেষ হলো ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হলো আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।”
একই পোস্টে নতুন সরকারকেও শুভেচ্ছা জানান রাজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।
রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় রাজ চক্রবর্তীকে বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দেখা গেলেও এবারের নির্বাচনে তার পরাজয় বড় আলোচনার জন্ম দেয়।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যারাকপুরে তার রোড শো ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। তবে ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সে সময় রাজকে লক্ষ্য করে “চোর চোর” স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকি কাদা ও ঘুঁটে নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তিনি।
রাজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সমর্থক ও সহকর্মীদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার চলচ্চিত্রজগতে আরও সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের আশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে রাজের স্ত্রী Subhashree Ganguly নির্বাচনের ফলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করেন, রাজ তাদের জীবনের নায়ক এবং রাজনৈতিক পরাজয় যেন তার মনোবল ভেঙে না দেয়।
চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে পরিচিত রাজ চক্রবর্তী বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় নাম। রাজনীতিতে তার যাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, তবে আলোচিত। এখন তিনি পুরোপুরি চলচ্চিত্রে ফিরে যান কি না, সেটিই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক