চাচার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২০২৬ সালের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় ট্রাকের চাপায় নিহত হয় ওই শিক্ষার্থী।
নিহত কিশোরীর নাম পুষ্প (১৫)। সে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌরসভার পৈলপাড়া গ্রামের কমল পাটোয়ারীর মেয়ে। পুষ্প মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল এবং বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন দিন আগে পুষ্প তার মায়ের সঙ্গে দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকার বড় চাচা রতন পাটোয়ারীর বাসায় বেড়াতে যায়। বুধবার বিকেলে তারা বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় গুরুতর আহত হয় পুষ্প।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত পুষ্প তার বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যাসন্তান। তার বাবা কমল পাটোয়ারী ও মা আসমা বেগমের আরও এক সন্তান রয়েছে—ছেলে জোবায়ের, যে মতলবগঞ্জ জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুষ্পের মৃত্যুর খবরে শোকাহত হয়ে পড়েছেন তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোজাহের হোসেন বলেন, ‘পুষ্প ছিল আমাদের বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। সে নিয়মিত স্কুলে আসত। তার মৃত্যুর খবর শুনে আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম জানান, পুষ্প ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল এবং অত্যন্ত মনোযোগী ও ভদ্র শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
নিহত পুষ্পের মা আসমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার মেয়ের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে ভালো কিছু করার। মেয়েকে হারিয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
এই দুর্ঘটনার খবরে মতলব ও দাউদকান্দি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী পুষ্পের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কসমিক ডেস্ক