ঢাকার সাভারে বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় দেড় কেজি হেরোইনসহ এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব-৪। আটক ব্যক্তির নাম হৃদয় হোসেন (২৭)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব-৪ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বিরুলিয়া রোড সংলগ্ন আমতলা পালোয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে হৃদয় হোসেনকে আটক করা হয়। তিনি সাভার উপজেলার দেওগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব। উদ্ধার করা মাদকটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকালে র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় স্বীকার করেছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে সাভার ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু মাদক ব্যবসাই নয়—হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
র্যাব আরও জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আটক হৃদয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে হৃদয়ের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সামাজিক শান্তি ফিরবে।
সব মিলিয়ে, সাভারের এই অভিযানকে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কসমিক ডেস্ক