ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর দাবিতে পিডিবির কড়া অবস্থান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর দাবিতে পিডিবির কড়া অবস্থান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 30, 2026 ইং
ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর দাবিতে পিডিবির কড়া অবস্থান ছবির ক্যাপশন:

দেশে প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণে আয়োজিত গণশুনানিতে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে বিপিসির প্রস্তাবিত দাম নিয়ে ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গণশুনানিতে বিপিসি ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৮১ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে বিপিসি এই তেল ৮৬ টাকা দরে বিক্রি করছে। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি আন্তর্জাতিক বাজার ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৭৪ টাকা ০৪ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

ফার্নেস অয়েলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গণশুনানিতে দাবি করে, আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী এই তেলের ন্যায্য দাম সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ৮২ পয়সার বেশি হওয়া উচিত নয়। পিডিবির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন, বিপিসির কাছ থেকে বেশি দামে তেল কিনে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছে।

তিনি জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি যেখানে ৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা লাভ করেছে, সেখানে পিডিবি ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চরম লোকসান গুনছে। তাঁর মতে, ডিসেম্বরে বেসরকারি কোম্পানির আমদানি করা ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৫৭ টাকা, অথচ বিপিসির কাছ থেকে একই তেল কিনতে হয়েছে ৮৬ টাকা দরে।

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে জ্বালানি খরচ পড়ছে ১৮ দশমিক ৪১ টাকা, যেখানে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে হচ্ছে ৬ দশমিক ৯৯ টাকায়। ফলে ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো না গেলে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে।

এর জবাবে বিপিসির জেনারেল ম্যানেজার এ টি এম সেলিম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে শুল্ক, ডিউটি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করেই দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পিডিবির উপস্থাপিত আন্তর্জাতিক বাজারদরের তথ্য সঠিক হলেও সেখানে এসব অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

গণশুনানিতে বিপিসির সহযোগী বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর দাবি জানালেও জেরা পর্বে তারা স্বীকার করে যে নিয়মিত বড় অঙ্কের মুনাফা করছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিয়েছে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি তাদের কর্মীদের ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রফিট বোনাস দেওয়ার কথাও স্বীকার করে।

গণশুনানিতে উপস্থিত এক ভোক্তা প্রতিনিধি জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে বিপিসির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আইন অনুযায়ী সব জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির। তাই সব ধরনের জ্বালানির দাম একই কাঠামোর আওতায় নির্ধারণ করা উচিত।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কাউকে বেশি বা কম সুবিধা না দিয়ে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

গণশুনানিতে কমিশনের সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আইন উপদেষ্টা: মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শ

আইন উপদেষ্টা: মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শ