ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক রাতের মধ্যেই সংঘটিত ভয়াবহ গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার ধামাইল পশ্চিম পাড়া গ্রামে তিনজন কৃষকের মোট আটটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। ঘটনাটি স্থানীয় কৃষি ও পশুপালন নির্ভর পরিবারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে চোরচক্র প্রথমে কৃষক মোস্তাফার বাড়ির গোয়ালঘরে প্রবেশ করে তালা ভেঙে ফেলে। এরপর তারা দুটি বড় ষাঁড় গরু এবং ছয় মাসের বাচ্চা পেটে থাকা একটি গাভী মাহেন্দ্র ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের তালা ভাঙা দেখে মোস্তাফা বিষয়টি জানতে পারেন। তার অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি চুরি।
একই রাতে পাশের বাড়িতে কৃষক বকুল মিয়ার গোয়ালঘরেও হানা দেয় চোরেরা। সেখান থেকে একটি পাঁচ মাসের বাচ্চা পেটে থাকা গাভী এবং একটি বড় ষাঁড় গরু চুরি হয়। অন্যদিকে কৃষক মাহতাব উদ্দিনের গোয়ালঘর থেকেও দুটি ষাঁড় গরু নিয়ে যায় চোরচক্র, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
একই এলাকায় একই রাতে একাধিক বাড়িতে এ ধরনের চুরির ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো সাধারণ চুরি নয় বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত অভিযান। স্থানীয়দের মতে, চোরেরা আগে থেকেই এলাকা পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপদ সময়ে গোয়ালঘর লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুর চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় এমন চুরির ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, তারা রাত জেগে পাহারা দিয়েও গরু রক্ষা করতে পারছেন না। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোস্তাফা বলেন, তার জীবনের সঞ্চয় ছিল ওই গরুগুলো। তিনি বলেন, “চোরের দল আমাকে একরকম পঙ্গু করে দিয়েছে। এত দামি গরুগুলো এক রাতেই নিয়ে গেছে, এখন আমি দিশেহারা।” তার মতোই অন্য কৃষকরাও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় পর্যাপ্ত টহল পুলিশ না থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা দাবি করেছেন, চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব এবং চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়েই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিলেও কৃষকদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। বিশেষ করে কোরবানির মৌসুম সামনে থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ ধরনের চুরির ঘটনা বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে গফরগাঁওয়ের এই ঘটনা শুধু তিন কৃষকের ক্ষতি নয়, বরং পুরো এলাকার পশুপালন খাতের নিরাপত্তা ও আস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন স্থানীয়দের একমাত্র প্রত্যাশা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
কসমিক ডেস্ক