সামিট গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সামিট গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
সামিট গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে ১১০০ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ করেছেন উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া-এর অর্থনীতি বিভাগের লেকচারার ড. খান জহিরুল ইসলাম

সম্প্রতি ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক একটি জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। কনভেনশনটির আয়োজন করে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।

বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সামিট গ্রুপ কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তার মতে, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক অপচয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে সামিট গ্রুপ, যা জ্বালানি খাতে তাদের প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ।

ড. জহিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে সরাসরি জ্বালানির ঘাটতিকে দায়ী করেননি। বরং তিনি বলেন, এই সংকট মূলত দুর্নীতি এবং ভুল নীতিনির্ধারণের ফল।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করে, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৯ শতাংশ। এত বিপুল ব্যয়ের পরও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা (ইনস্টলড ক্যাপাসিটি) বর্তমান চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হলেও বাস্তবে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এই অপ্রয়োগকৃত সক্ষমতাকে একটি দুর্নীতির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে।

সমাধান হিসেবে তিনি ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই উৎপাদন হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টন বর্জ্য।

এই বর্জ্যকে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে দেশের লোডশেডিং সমস্যাও অনেকাংশে কমানো যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি খাতে নীতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. খান জহিরুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি এই খাতে স্বচ্ছতা ও কার্যকর নীতিমালার ওপর জোর দেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বগুড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ

বগুড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ