চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় রাস্তার পাশে ঝোপ থেকে হাত-পা ও মুখ স্কচটেপে মোড়ানো এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (২ মে) সকালে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকা-এর রান্ধুনীমুড়া মুন্সী বাড়ির সামনের সড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। পরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির। তার হাত, পা এবং মুখ স্কচটেপ দিয়ে শক্তভাবে পেঁচানো অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মুকুর চাকমা এবং আব্দুল মান্নান। তারা মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুঞ্জু মুন্সী জানান, সকালে লোকমুখে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোপের মধ্যে মরদেহটি দেখতে পান। তার ভাষ্যমতে, মরদেহটির হাত-পা ও মুখ স্কচটেপে বাঁধা ছিল। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে এলাকার কেউ আগে দেখেনি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো স্থান থেকে এনে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন করা হয় এবং পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান বলেন, রাস্তার পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এখন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-কে খবর দেওয়া হয়েছে।
পিবিআই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং মরদেহের আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শুরু করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হলেও বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সব মিলিয়ে, হাজীগঞ্জে স্কচটেপে মোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি এখন রহস্যে ঘেরা একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক