Indonesia-এর Mount Dukono আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার ভোরে হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতের পর অন্তত ২০ জন পর্বতারোহী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৯ জন Singapore-এর নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধার কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত দুইজন সিঙ্গাপুরীয় পর্বতারোহীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার কর্মকর্তা Iwan Ramdani জানান, উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা ও আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, নিখোঁজদের মধ্যে কতজন আহত হয়েছেন বা কী অবস্থায় আছেন। উদ্ধারকারীরা পর্বতারোহীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতত্ত্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু ছাই ও ধোঁয়ার স্তম্ভ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশে প্রবল গর্জনের শব্দও শোনা যায়।
ভূতত্ত্ব সংস্থার প্রধান Lana Saria বলেন, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে এতে বিমান ও নৌপরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্নেয় ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে আশপাশের আবাসিক এলাকা ও Tobelo শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল থেকেই বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এরপরও কিছু পর্বতারোহী সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
Basarnas উদ্ধার অভিযানের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচার ও জরুরি সরঞ্জাম নিয়ে পাহাড়ি পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান Erlikhson Pasaribu জানান, অগ্ন্যুৎপাতের পর জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদেরও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, উদ্ধারকারীরা দ্রুত নিখোঁজদের অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, শুক্রবার একটি গারমিন ডিভাইস থেকে জরুরি এসওএস সংকেত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি নিখোঁজ পর্বতারোহীদের কারও কাছ থেকে পাঠানো হয়েছে।
মাউন্ট ডুকোনো ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত। এটি দীর্ঘদিন ধরেই পর্বতারোহী ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।
বর্তমানে আগ্নেয়গিরিটি ইন্দোনেশিয়ার চার ধাপের সতর্কতা ব্যবস্থার তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকেই আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা পর্যটক ও পর্বতারোহীদের মালুপাং ওয়ারিরাং জ্বালামুখের চার কিলোমিটারের মধ্যে না যেতে সতর্ক করে আসছিল।
Indonesia প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অব ফায়ার” অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ফলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সবসময় উচ্চ সতর্কতায় থাকে।
কসমিক ডেস্ক