টানা কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ হাওর Hakaluki Haor এখন কার্যত বানের জলে নিমজ্জিত। এতে বোরো ধান ঘরে তোলার শেষ সময়ে এসে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
হাওরপাড়ের ভূকশিমইল, জয়চন্ডী, কাদিপুর, বরমচাল, ভাটেরা ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নসহ অর্ধ শতাধিক গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষকের জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির নিচ থেকে কষ্ট করে তুলে আনা ধান ডেরায় রেখে পচে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় অঙ্কুরোদগমও শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে Kulaura Upazila-এর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে কৃষকরা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করে ধান কাটছেন। অনেকেই কাটা ধান সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখলেও রোদের অভাবে তা শুকানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়মতো হারভেস্টার মেশিনের অভাব, জ্বালানি সংকট এবং শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক বিঘা ধান কেটে বাড়ি পৌঁছাতে খরচ হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে অনেকেই ধানের আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুলাউড়ায় ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে হাওর এলাকায় ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং দ্রুত ধান সংগ্রহের জন্য তদারকি করছে। পাশাপাশি সরকারি মূল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যাতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।
তবে কৃষকদের দাবি, আগাম বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না নিলে প্রতি বছরই একই দুর্ভোগে পড়তে হবে হাওরাঞ্চলের মানুষকে।
কসমিক ডেস্ক