রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বাল্টিক সাগরের প্রিমোরস্ক বন্দরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের এমন হামলা ক্রেমলিনকে চাপে ফেলেছে এবং রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
হামলার চাপ এড়াতে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম সাইবেরিয়ার ওমস্ক এবং উরাল পর্বতের কাছে পার্ম শহরে নতুন স্থাপনা বসানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ ক্রেমলিনের উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার, পাইপলাইন এবং সামরিক সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এপ্রিলের শুরুর দিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বাশকোর্তোস্তানের উফা শহরে বাশনেফত-নোভোইল তেল শোধনাগারের একটি বড় ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিটটি পুরো শোধনাগারের ২৮ শতাংশ ক্ষমতা বহন করত। তবে অন্য তিনটি ইউনিট এখনও চালু রয়েছে। এরপর ৫ এপ্রিল প্রিমোরস্কের কাছে রাশিয়ার তেল পাইপলাইনও হামলার শিকার হয়। এই স্থানটি এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া কস্তোভস্কি শোধনাগার এবং নোভোহিরকোভস্কায়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুধু স্থলভাগ নয়, সমুদ্রেও ইউক্রেনের হামলা চলছে। ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলো লক্ষ্য করে আঘাত করা হচ্ছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ চেইনে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম দিকের মধ্যে আবুধাবি ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলস্বরূপ, সামরিক সহিংসতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতার জন্য এই হামলা উদ্বেগজনক। ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি ঘটাচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সমুদ্রপথ ও স্থলবঙ্গের উভয় ক্ষেত্রেই হামলা ক্রমবর্ধমান হচ্ছে, যা বিশ্ববাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনের এই কৌশল রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও পাইপলাইন সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হরমুজ প্রণালী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক হতে হবে।
কসমিক ডেস্ক