পেন্টাগনের হিসাব নিয়ে বিতর্ক, পাল্টা অভিযোগ তেহরানের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পেন্টাগনের হিসাব নিয়ে বিতর্ক, পাল্টা অভিযোগ তেহরানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 1, 2026 ইং
পেন্টাগনের হিসাব নিয়ে বিতর্ক, পাল্টা অভিযোগ তেহরানের ছবির ক্যাপশন:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাত এখন শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা তথ্যযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের দিকেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন-এর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মিথ্যাচার’-এর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, যুদ্ধের প্রকৃত খরচ সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসন সঠিক তথ্য গোপন করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।

আরাগচির মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলেই এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় ইতোমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের প্রায় চার গুণ।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান মূলত বোঝাতে চেয়েছে যে, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধের আর্থিক চাপ কম দেখানোর চেষ্টা করছে। আরাগচি আরও বলেন, এই ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপরই এসে পড়বে। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি আমেরিকান পরিবারের ওপর মাসে প্রায় ৫০০ ডলারের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, পেন্টাগন যে হিসাব প্রকাশ করেছে, তাতে যুদ্ধের খরচ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বিতর্ক রয়েছে। কিছু ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক এবং অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এই হিসাব বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম। তাদের মতে, প্রকৃত ব্যয় ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যেও হতে পারে।

এমনকি কিছু মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম CBS News-কে জানিয়েছেন, প্রকৃত খরচ পেন্টাগনের দাবির প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে—অর্থাৎ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। ফলে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধ ব্যয়ের প্রকৃত অঙ্ক নিয়ে এখনও কোনো ঐকমত্য নেই।

ইরানের রাজনৈতিক মহল থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। দেশটির সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মন্তব্য করেছেন, ইরানের ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই ধরনের অবরোধ বা সামরিক চাপ কার্যকর করা সহজ হবে না। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে এই ধরনের দ্বন্দ্ব শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলেরও অংশ। একটি দেশ যখন তার যুদ্ধ ব্যয় কম দেখায়, তখন তা অভ্যন্তরীণ জনমত নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সেই ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করতে চায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তথ্যযুদ্ধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় কত—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা উভয় দেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল সামরিক সমাধান নয়—বরং কূটনৈতিক পথই এই সংকট নিরসনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেট অঞ্চলে ১৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প

সিলেট অঞ্চলে ১৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প