টিকে গ্রুপের জালিয়াতি: কেজিডিসিএলের চিঠি, বিপিডিবির নীরবতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

টিকে গ্রুপের জালিয়াতি: কেজিডিসিএলের চিঠি, বিপিডিবির নীরবতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 4, 2026 ইং
টিকে গ্রুপের জালিয়াতি: কেজিডিসিএলের চিঠি, বিপিডিবির নীরবতা ছবির ক্যাপশন:

দেশের জ্বালানি খাতে আলোচিত টিকে গ্রুপের গ্যাস সংযোগ জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) শুধু একটি চিঠি দিয়েই দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে, আর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত টিকে গ্রুপের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গ্যাস অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এনওসি (No Objection Certificate) দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন, তার নাম ব্যবহার করে ভুয়া এনওসি দাখিল করা হয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই ধরনের নথি গ্রহণ করার কোনো সুযোগ না থাকলেও তা গ্রহণ করে ফাইল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গুরুতর অনিয়মের পর স্বাভাবিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পদক্ষেপের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। বরং অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের এই জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহল সক্রিয়।

২০২১ সালের ৩১ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে হলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়ম না মেনেই টিকে গ্রুপ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ফৌজদারহাট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নামে একটি এনওসি দাখিল করা হয়, যদিও সেই বিভাগের এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল এবং কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে অনুমোদন আদায় করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কেজিডিসিএলের ১৬৯তম বোর্ড সভায় টিকে গ্রুপের কর্ণফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ১৬.৮ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্রকল্পে গ্যাস সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন জ্বালানি সচিব মো. আনিসুর রহমান

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান দাবি করেন, তিনি ক্যাপটিভ বিদ্যুতের জন্য কোনো এনওসি দেননি এবং তার দেওয়া চিঠি এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। তার এই বক্তব্যের পর পুরো ঘটনার জালিয়াতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপর কেজিডিসিএল বিপিডিবির চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দেয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বিপিডিবির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ বিপিডিবির জবাবের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে টিকে গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছে এবং স্থানীয় অফিসের এখতিয়ার সম্পর্কে তাদের জানা ছিল না। তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কারণেই তারা ক্যাপটিভ বিদ্যুতের আবেদন করে।

অন্যদিকে, গ্যাসের চাপ (pressure) কারসাজির মাধ্যমেও টিকে গ্রুপের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গ্যাসের চাপ পরিবর্তন করে প্রায় ১৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেজিডিসিএল।

এই ঘটনায় আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির সময় প্রেসার ফ্যাক্টর পরিবর্তনের মাধ্যমে বিল কম দেখানো হয়, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার রাজস্ব কম আদায় হয়েছে।

সব মিলিয়ে, টিকে গ্রুপের এই ঘটনাটি দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ১২

ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ১২