জাতীয় সংসদে নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বেহাল চিত্র তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, সরাইল উপজেলার একমাত্র হাসপাতালটি নিজেই যেন একটি রোগীর মতো অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য মাত্র একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি চরম পর্যায়ে রয়েছে।
তার ভাষায়, “যে হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসা দেওয়ার কথা, সেটিই এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স ও কর্মচারী। এমনকি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে।
রুমিন ফারহানা জানান, হাসপাতালটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন থেমে গেছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রকল্পের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে হাসপাতালের পুরনো দোতলা ভবনেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ৬৪টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। ফলে বিদ্যমান চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা সেবার মানকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যে দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামগ্রিক দুরবস্থার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
রুমিন ফারহানার এই বক্তব্য সংসদে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্যার সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।a
কসমিক ডেস্ক