দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের অভাবনীয় সাড়া ও বক্স অফিস সাফল্যের পর এবার আন্তর্জাতিক মুক্তি পেল তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হতে শুরু করেছে এই সিনেমা। ছবিটির পরিবেশক বঙ্গজ ফিল্মস নিশ্চিত করেছেন, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকস টাউন, ক্যাম্পবেল টাউন, ক্যারোসলসহ মোট ১৯টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
বঙ্গজ ফিল্মস জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তির পাশাপাশি আগামী এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহেও দর্শকরা দেখতে পাবেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকরা ছবির প্রতি অনবদ্য সাড়া দেখাচ্ছেন এবং বক্স অফিসেও সিনেমাটি রমরমিয়ে আয় করছে।
সিনেমার কাহিনী একটি ট্রেনযাত্রার মাধ্যমে এগোছে, যেখানে যাত্রীদের জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে। সিনেমার মূল গল্প হুমায়ূন আহমেদ-এর ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত। গল্পের সঙ্গে ট্রেনযাত্রা মিলিয়ে মানুষের সম্পর্ক, স্বপ্ন, আশা ও হতাশার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছবিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সুপরিচিত অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা। এর মধ্যে রয়েছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর ও আজমেরী হক বাঁধন। তাদের অভিনয় সিনেমার গল্প ও চরিত্রগুলোর জীবন্ততা এবং অনুভূতিকে আরও বাস্তবায়িত করেছে।
পরিচালক তানিম নূর জানিয়েছেন, “দেশীয় দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তার পর আন্তর্জাতিক মুক্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত উত্সাহব্যঞ্জক। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের দর্শকরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান, সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ছবিটি শুধু গল্পের কারণে নয়, বরং পরিচালনা, সিনেমাটোগ্রাফি ও সঙ্গীত ব্যবস্থাপনাতেও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সিনেমার আবহসংগীত ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টগুলো ট্রেনযাত্রার উত্তেজনা ও অনুভূতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। দর্শকদের মধ্যে এটি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির প্রশংসার ঝড় বইছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাধ্যমে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের গৌরব বাড়াচ্ছে।
বঙ্গজ ফিল্মসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মুক্তি চলাকালীন সময়ে ছবিটির প্রদর্শনী এবং দর্শক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। সফল হলে অন্যান্য দেশে এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীরও সম্ভাবনা রয়েছে।
এভাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। ট্রেনের চাকা ঘুরছে যেমন, সিনেমার গল্পও দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে, যা শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবনের বিভিন্ন অনুভূতিরও পরিচয় দেবে।
কসমিক ডেস্ক