চার মহাবিপদ থেকে মুক্তির নববী দোয়া, যা নিয়মিত পাঠ করতেন রাসুল (সা.) The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চার মহাবিপদ থেকে মুক্তির নববী দোয়া, যা নিয়মিত পাঠ করতেন রাসুল (সা.)

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 12, 2026 ইং
চার মহাবিপদ থেকে মুক্তির নববী দোয়া, যা নিয়মিত পাঠ করতেন রাসুল (সা.) ছবির ক্যাপশন:

জীবন কখনো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর থাকে, আবার কখনো নানা পরীক্ষা, দুঃখ-কষ্ট ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। একজন মুমিন বিশ্বাস করেন, সব ধরনের নিরাপত্তা, সফলতা ও মুক্তির উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই বিপদের সময়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতকে এমন বহু দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এসব দোয়ার মধ্যে একটি বিশেষ দোয়া রয়েছে, যেখানে চারটি বড় বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।

দোয়াটি হলো—

اللهمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاءِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই, ওয়া দারাকিশ শাকা-ই, ওয়া সুইল ক্বদা-ই, ওয়া শামাতাতিল আদা-ই।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ভয়াবহ বিপদের কষ্ট, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, অশুভ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দের কারণ হওয়া থেকে আশ্রয় চাই।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়া ও আখিরাতের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকার জন্য নিয়মিত এ দোয়া পাঠ করতেন। এতে মানুষের জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমত, ‘জাহদুল বালা’ অর্থ এমন কঠিন পরীক্ষা বা বিপদ, যা মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও সহ্য করা কঠিন। দ্বিতীয়ত, ‘দারাকুশ শাকা’ বলতে দুর্ভাগ্য বা এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষকে দুঃখ ও সংকটে নিমজ্জিত করে। তৃতীয়ত, ‘সুইল ক্বদা’ হলো অশুভ পরিণতি বা এমন ফলাফল, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আর চতুর্থত, ‘শামাতাতুল আদা’ বলতে শত্রু বা বিরোধীদের এমন আনন্দকে বোঝানো হয়েছে, যা একজন মানুষের বিপদ বা ব্যর্থতার কারণে সৃষ্টি হয়।

ইসলাম মানুষকে শুধু বিপদ থেকে বাঁচার জন্য নয়, বরং বিপদের সময় ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা অর্জনেরও শিক্ষা দেয়। এই দোয়াটি সেই শিক্ষারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এতে একজন মুমিন নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন।

তাই দৈনন্দিন জীবনে নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যার জিকিরে অথবা ব্যক্তিগত দোয়ায় এই নববী দোয়াটি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিয়মিত এ দোয়া পাঠ করলে একজন মুমিন মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন এবং জীবনের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য ও রহমতের প্রত্যাশা করতে পারেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কোন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে জানাল সরকা

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কোন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে জানাল সরকা